ভার্চুয়াল মাস্টারকার্ড প্রতারনা ! শিকার হবার আগেই সতর্ক হোন।

ভার্চুয়াল মাস্টারকার্ড প্রতারনা ! শিকার হবার আগেই সতর্ক হোন।

- in Scams
106
2

Virtual Master Card/Virtual Credit Card Scams In Bangladesh.
বাংলাদেশে ভার্চুয়াল মাস্টারকার্ড প্রতারনা ! সেবার নামে সর্বনাশ !!

মাস্টার কার্ড কি জিনিস ও তার প্রয়োজনীয়তা কতটুকু তা নিশ্চয় কারও অজানা নয়।কিন্তু আমাদের দেশে অনেকেরই নিজস্ব কোন মাস্টার কার্ড নেই, অনেকেই আছে যারা অনেক কারনেই এখনও একটি মাস্টার কার্ডের মালিক হতে পারেন নাই। আর সেই সব কার্ড বিহীন লাখো মানুষের অস্থায়ী প্রয়োজন মেটাতে এলো আধুনিক এক কার্ড যার নাম VCC (Virtual Credit Card)।

VCC এমন একটি কার্ড সিস্টেম যেটিতে আপনি বাস্তবে কোন কার্ড পাবেন না, কেবল ইমেজ অথবা কার্ডের তথ্য পাবেন । যার দ্বারা অনলাইনে লেন-দেন করতে পারবেন কিন্তু হাত দিয়ে ধরতে পারবেন না বা কোন এটিএম বুথে ঢুকাতে পারবেন না।

আমার আলোচনার মূল বিষয় এই কার্ডের পেছনে লুকিয়ে থাকা স্ক্যাম বা প্রতারনা নিয়ে।

অভাব যার দুয়ারে সেতো খাবারের খোঁজ করবেই, আর এটাই সাভাবিক।কিন্তু সেই অভাবের সুযোগ নিয়ে কিছু লোক আছে, অভাবীকে আরও নিঃস্ব করাই তাদের কাজ হয়ে থাকে।
অনলাইনে যখন কষ্টে অর্জিত টাকাকে ঘরে আনার প্রয়োজন পড়ে, বা জরুরী কিছু কেনা কাটার প্রয়োজন পড়ে, আর তা যদি কোন এ্যাডস এর ক্যাম্পেইন হয়, তা হলে তো মাথাই নষ্ট হয়ে যাবে একজন অনলাইন মার্কেটারের, যে কিভাবে ব্যালান্স লোড করা যায়। ব্যালান্স নেইতো এ্যাড নেই, এ্যাডস নেই তো ইনকামও নেই ! ইত্যাদী…ইত্যাদী।
এমন সময় অন্য উপায় খুজঁতে খুজঁতে নিঃশ্চয় যে কারো VCC এর কথাই মনে পড়বে।

আর কি আপাতত কাজ চালিয়ে নেবার জন্যে হলেও বা অন্য কোন প্রয়োজনে আমরা একটা VCC কার্ডের আবেদন করে বসি।আর সেই আবেদনের প্রয়োজনে আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য (ভোটার আইডি/পাসপোর্ট/ড্রাইভিং লাই:) একটা ভন্ডদের হাতে বিনা দ্বিধায় তুলে দেই।এর চেয়েতো আঙুলের ছাপ দিয়ে সিম রেজিষ্টেষন করাও নিরাপদ!!

যাইহোক আবেদন করলেন, ২৪ ঘন্টার মধ্যে একটা কার্ডের তথ্যও হাতে পেলেন। তারপর ?
তারপরের কাজগুলোর একটা তালিকা আমি দিচ্ছি এবার।

প্রত্যেকবার কার্ডটি লোডের জন্য আপনাকে তাদের প্রদত্ত নাম্বার বা পেমেন্ট মাধ্যমে বাড়তি রেটে ডলার কিনে কার্ডে লোড করার জন্য তাদের কাছে পাঠাতে হবে।
আবেদনের শুরুতেই রিচার্জ করেছেন নিশ্চয়, কার্ডকে কে একটিভ রাখার জন্য আপনার কার্ডে সব সময় ১০ ডলার পড়ে থাকবে, ওটা আর কোনদিন তুলতে পারবেন না।
অল্প টাকা দিয়ে কি আর করবেন, আবার লোড করার জন্য টাকা পাঠান।
জরুরী কাজের জন্য টাকা দিলেন অথচ লোড করতেই ৫ দিন চলে গেলো।
২০০ ডলার রিচার্জ করলেন, ৫০ ডলার খরচ করলেন। আর ৫ দিন পর একাউন্ট চেক করে দেখলেন ৫০ ডলার গায়েব এখন মাত্র ১০০ ডলার পরে আছে !তাদের সাথে যোগাযোগ করলেন, তারা আপনাকে একটা Transaction ID দিয়ে বললো”আপনি এখানে টাকা লেন-দেন করেছেন, তাই টাকা কেটেছে”।কিন্তু আপনি জানেন যে আপনি একটা বিড়িও কিনে খাননি।
Cross Border Charge হিসাবে প্রতি লেন-দেনে ৭ ডলারের বেশী একসট্রা চার্জ কেটে নেয়া হবে।
অনেকদিন ধরে কাজ করছেন, আপনার বিশ্বস্ত কোম্পানীতে পরিনত হয়েছে।ভাবছেন, বন্ধুদেরকেও বলবেন, এবং নিজেও দু একটা কার্ড সেল করবেন। যাইহোক, ৫০০ ডলার লোড দিলেন। ২ দিন পর দেখলেন একাউন্টে লগ-ইন করতে পারছেন না, অথবা আদরের কার্ডটি কাজ করছে না ! অপেক্ষায় থাকবেন না, হয়ত ঐ কার্ড আর কোনদিন কাজ করবেও না।

একটা কথা মনে রাখবেন,শুধু আপনার ৫০০ ডলারের টাকা দিয়ে অমন সাইট গোটা ত্রিশেক বানিয়ে ফেলা যায়।

আজই সতর্ক হোন।বিশেষ করে যখন দেখবেন:-

যদি বুঝতে পারেন, কোন কোম্পানী বাংলাদেশের।
তাদের সাথে তাৎক্ষনাত সরাসরি যোগাযোগের জন্য কোন ফোন নাম্বার দেওয়া নেই।আর তা থাকলেই বা কি !
সাপোর্ট হিসাবে ফেইসবুক অথবা স্কাইপি লাইভ চ্যাট ছাড়া আর কিছু নেই।
কার্ড থেকে ব্যালান্স চুরি হচ্ছে।
এমন কিছু আপনার দৃষ্টিগোচর হলে, আজই সতর্ক হোন।হয়ত ভবিষ্যতের অনেক বড় লোকশান থেকে বেঁচে যেতে পারেন।

তাহলে উপায় কি?

চেষ্টা করুন একটা নিজস্ব মাস্টার কার্ডের ব্যবস্থা করার। বাংলাদেশে থেকে আপনি দু ধরনের মাস্টার কার্ড পাবেন। ১। পেওয়োনিয়ার ফ্রি মাস্টার কার্ড ২। পেজা পেয়িড মাস্টার কার্ড
মাস্টার কার্ডের ব্যবস্থা না হলে, বন্ধু বান্ধব বা সিনিয়র কোন ফ্রিল্যান্সার এর সহযোগীতায় পেমেন্ট করুন।তাকে তার খরচ বাদেও বাড়তি ৫০০ টাকা বা তার বেশী দেবার প্রতিশ্রুতি দিন।তবু ৫০০ ডলার হারানোর দুঃখ আপনাকে পোহাতে হবে না।
দু,দিন পরে হোক তবু নির্ভর যোগ্য সোর্স ছাড়া টাকা লেন-দেন একদম করবেন না, অন্যথায় হয়তো বাশঁ খেয়ে যেতে পারেন।

সবশেষে নীচে কিছু VCC কার্ডের সাইটের URL দিলাম।আমার উপড়ের কথার আলোকে আপনারা বিচার করে তবেই ব্যবহার করবেন।সবচেয়ে উপড়ের URL টি অলরেডি দীর্ঘদিন সার্ভিস দেবার পর কয়েক মাস আগেই গায়েব হয়ে গেছে।আল্লাহই ভাল জানেন হাজার না লাখ ডলার নিয়ে গায়েব হলো।

https://www.bdcard.co.uk
http://www.card.com.bd/fee/
http://www.royaltechbd.com/card-apply/

এ্র্ই পর্বে বিদায় নিচ্ছি, সবাই নিরাপদে থাকুন।ভাল থাকুন। আপনার যদি ব্যক্তিগত কোন VCC অভিজ্ঞতা থাকে, অবশ্বই কমেন্ট করে জানা্বেন।পোষ্টটি ভাল লাগলে বাকি ভাইদের জানানোর স্বার্থে শেয়ার করবেন।

Facebook Comments

2 Comments

  1. হাফিজুল ইসলাম

    বাচাঁলেন ভাই,
    আমি একটা নিবো নিবো ভাবছিলাম ! এত কাহিনীতো আমার জানা ছিলো না।
    ধন্যবাদ ভাই।

    1. জেনে ভাল লাগলো।আপনাকেও সব সময় স্বাগতম।

Comments are closed.

You may also like

Payoneer MasterCard Scams in Bangladesh

বাংলাদেশে পেওয়োনিয়ার মাস্টারকার্ড প্রতারণা Payoneer MasterCard Scams in